আসসালামু আলাইকুম হাই ,,MM IT BARI,, এই ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

ভয়ের রাজনীতি ও ভেড়াদের গল্প

 


ভয়ের রাজনীতি ও ভেড়াদের গল্প

এক লোকের অনেকগুলো ভেড়া ছিল। প্রতিদিন সে একটি করে ভেড়া জবাই করত। এই দৃশ্য দেখে ভয়ে, শঙ্কায় বাকি ভেড়াগুলোর কলিজা কেঁপে উঠত।

একদিন ভেড়াগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিল এরপর যেদিন তাদেরকে মাঠে চরাতে নিয়ে যাওয়া হবে, সেদিন সবাই একসাথে পালিয়ে যাবে।

পরদিন মাঠে পৌঁছাতেই ভেড়াগুলো এদিক সেদিক সরে গিয়ে পালানোর চেষ্টা শুরু করল। প্রাণীগুলোর মনের অবস্থা লোকটি সহজেই বুঝে ফেলল।

সে তখন ভেড়াগুলোকে কাছে ডেকে শান্ত গলায় বলল, “আমি তোমাদের মনের অবস্থা বুঝতে পারছি, তোমাদের পালানোর কোনো দরকার নেই। আগেই তোমরা আমাকে বলতে পারতে। আমি তো শুধু সেই ভেড়াগুলোকেই জবাই করেছি, যারা ঠক, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক! যারা গুরুতর অন্যায় করে কিংবা বাকিদের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে।”


সে আরও বলল, “যদি আমি জানতে পারি, কোনো ভেড়া তোমাদের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে তোমাদের রক্ষা করার জন্যই আমি তাকে জবাই করি। এখন তোমরাই বলো, এতে কি আমার কোনো অন্যায় আছে?"

একথা শুনে ভেড়াগুলো নিজেদের মধ্যে শলা-পরামর্শ শুরু করল। বয়স্ক এক ভেড়া বলল, “কথা তো ঠিকই! আমাদের মালিক যা করেন, আমাদের নিরাপত্তার জন্যই করেন।”

মাতব্বর গোছের এগিয়ে এসে বলল, “আমরা শুধু শুধু মালিককে ভুল বুঝেছিলাম। আমাদের মালিক কখনোই আমাদের ক্ষতি করতে পারেন না।”

এভাবে সব ভেড়া মালিকের কথায় আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেল। পরের দিন থেকে লোকটি যখন আবার একটা করে ভেড়া জবাই করতে লাগল, তখন আর কেউ এটা নিয়ে কথা বলল না। বরং তারা মনে মনে খুশিই হলো এই ভেবে যে, ভালই হয়েছে, মালিক দুষ্ট ভেড়াটাকে শাস্তি দিয়েছে।

ঠিক এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে কিছু মানুষ সাধারণ জনগণকে ভুল বোঝায়, বোকা বানায়। নিজেদের অন্যায়কে তারা “ন্যায়” বলে প্রতিষ্ঠা করে। সত্যকে বানায় মিথ্যা আর মিথ্যাকে সাজায় সত্যের মুখোশে।


ক্ষমতার মোহে তারা সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়। আর আমরা? আমরা ভেড়াগুলোর মতোই নিজেদেরই ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকাহত না হয়ে বরং তা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করি।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো আমরা বুঝতেই পারি না, পরের জনের পর কিংবা তারপর একদিন আমাদেরও ধ্বংসের পালা আসছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url