আসসালামু আলাইকুম হাই ,,MM IT BARI,, এই ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

৭৫ মিলিয়ন ডলারে চাঁদ, ৭৪ মিলিয়ন ডলারে মঙ্গল—কীভাবে সম্ভব করল ভারত?

 


৭৫ মিলিয়ন ডলারে চাঁদ, ৭৪ মিলিয়ন ডলারে মঙ্গল—কীভাবে সম্ভব করল ভারত?

মহাকাশ অভিযান শব্দটা শুনলেই আমাদের মাথায় ভেসে ওঠে বিশাল বাজেট, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের রকেট, আর প্রযুক্তিতে ঠাসা মার্কিন বা ইউরোপীয় সংস্থার চিত্রপট। কিন্তু ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO হুট করে এসে সব হিসাব উল্টে দেয়। যেখানে হলিউডের একটি সায়েন্স ফিকশন সিনেমা নির্মাণে খরচ হয় কোটি কোটি ডলার, সেখানে ভারত তার বাস্তব মহাকাশ অভিযান সম্পন্ন করছে তার চেয়েও কম বাজেটে।

২০১৩ সালের বিখ্যাত সাই-ফাই সিনেমা Gravity নির্মাণে খরচ হয়েছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। অথচ ভারতের চন্দ্রযান-৩ মিশনের বাজেট ছিল মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ডলার। এই মিশনের মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করে, যা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের সিনেমা The Martian, যেখানে একজন নভোচারীর মঙ্গলগ্রহে টিকে থাকার গল্প দেখানো হয়েছে। এই সিনেমার নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ১০৮ মিলিয়ন ডলার। আর ভারতের প্রথম মঙ্গল অভিযান মঙ্গলযান (Mangalyaan) সফলভাবে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছেছে মাত্র ৭৪ মিলিয়ন ডলারে। এটি ছিল ভারতের প্রথম আন্তঃগ্রহ মিশন এবং বিশ্বের মধ্যে একমাত্র দেশ হিসেবে প্রথম চেষ্টাতেই সফল হয়েছে।

এখানে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, এত কম খরচে মহাকাশে পৌঁছানো কি আদৌ নিরাপদ বা কার্যকর?

ISRO এর এই ব্যয়সাশ্রয়ী সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত ও ঐতিহাসিক কারণ। প্রথমত, ভারতের বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার (১৯৭৪-এর পারমাণবিক পরীক্ষার পর) ইতিহাস ISRO কে বাধ্য করেছে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করতে। যা তাদের খরচ কমিয়ে আনে এবং প্রযুক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ দেয়।

দ্বিতীয়ত ISRO ছোট এবং পরিশ্রমী টিম নিয়ে কাজ করে। তারা একাধিক পরীক্ষামূলক মডেল তৈরি না করে সরাসরি ফ্লাইট-রেডি ইউনিট বানায়। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হয়। ভারতের মহাকাশযান সাধারণত হালকা ও ছোট আর ধাপে ধাপে গ্রাভিটি এ্যাসিস্ট ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছে। যার ফলে উৎক্ষেপণ খরচ কমে যায়। তাছাড়াও বিজ্ঞানীদের বেতন তুলনামূলকভাবে কম।

তবে সিনেমার সাথে বাস্তব মহাকাশ অভিযানের তুলনা করা ঠিক নয়। সিনেমা মূলত বিনোদনের উদ্দেশ্যে বানানো হয়। যার খরচ যায় সেটআপ, ভিএফএক্স, অভিনেতা, প্রোডাকশন ইউনিট আর মার্কেটিংয়ের পেছনে। অন্যদিকে মহাকাশ অভিযানে প্রতিটি ডলার খরচ হয় গবেষণা, প্রযুক্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর নিরাপত্তার উপর।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে—Gravity বা The Martian এর মতো মুভিগুলো শত মিলিয়ন ডলার খরচ করলেও, সেগুলো তাদের নির্মাতাদের জন্য ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ছিল। তারা সেই টাকা সুদে-আসলে ফেরতও পেয়েছে। অন্যদিকে ISRO এর মিশনগুলো শুধু অর্থনৈতিক লাভের জন্য নয় বরং গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, আর জাতীয় অগ্রগতির প্রতীক।

একটা কথা মনে রাখবেন, সিনেমা আমাদের কল্পনায় উড়তে শেখায়, আর মহাকাশ গবেষণা সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস যোগায়। (বিজ্ঞান্বেষী)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url