যারা সামনে ভালো, আড়ালে ক্ষতি করে—তাদের চিনবেন কীভাবে?
যারা সামনে ভালো, আড়ালে ক্ষতি করে—তাদের চিনবেন কীভাবে
একটি ঘায়েল হরিণ সিংহের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণ দৌড়াচ্ছিল। হঠাৎ সে জঙ্গলের পাশে কৃষকের বাড়ি দেখতে পেয়ে, কৃষক কে বলল, হে মানুষ আমার উপর দয়া করো। সিংহ আমার পিছনে। আমাকে বাঁচাও।
কৃষক বলল, আমার ঘরে খর কুটোর স্তুপ রাখা আছে। তাড়াতাড়ি গিয়ে সেই স্তুপের মধ্যে লুকিয়ে পড়ো। ভয় পেয়ো না। হরিণ তাই করলো। কিছুক্ষণ পর সেখানে সিংহ এসে কৃষককে জিজ্ঞেস করল, এখান থেকে কোন ঘায়েল হরিণ গিয়েছিল?
কৃষক জোরে উচ্চস্বরে হরিণকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে লাগলো, না ভাই, আমি তো কোন হরিণকে দেখিনি। কিন্তু কৃষক চোখ দিয়ে বারবার ঘরের ভিতরে খড় কুটোর দিকে ইশারা করছিল এবং তাঁর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ঘরের ভিতরে ইশারা করে দেখাচ্ছিল।
সিংহ কৃষকের কথায় বিশ্বাস করেছিল। কৃষকের চোখ এবং হাতের ইশারা বুঝতে না পেরে এখান থেকে চলে গেল।হরিণ যখন দেখল বিপদ চলে গেছে তখন সে ঘর থেকে বের হয়ে চুপচাপ চলে যাচ্ছিল। কৃষক তখন রেগে বলে উঠলো, আমি তোমাকে সাহায্য করেছি। তোমার জীবন বাঁচিয়েছি। আর তুমি আমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে চলে যাচ্ছো? তোমাদের পশুদের মধ্যে কি কোন কৃতজ্ঞতা বোধ নেই নাকি?
হরিণ থামলো। কৃষকের চোখের দিকে তাকালো। আর গম্ভীর ভাবে বলল, ভাই যদি তোমার মুখের কথা আর তোমার ইশারা একই হতো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতাম। তুমি আমাকে মুখ দিয়ে সাহায্য তো ঠিকই করেছ,, কিন্তু হাতের ইশারা দিয়ে তুমি আমার মৃত্যুর রাস্তা বানাতে চেয়েছিলে।
এটা তো আল্লার বিশেষ রহমত যে, সিংহ তোমার ইশারা বুঝতে পারেনি।তাই এখন আমি জীবিত আছি। যে মুখে একটা বলে কিন্তু মনে মনে আরেকটা চিন্তা করে, তাকে সম্মান দেয়া যায় না। এটা মোনাফিকদের লক্ষণ। আর মুনাফিকরা সম্মান প্রাপ্য নয়।
এরকমই কিছু মানুষ আমাদের সমাজে এবং আমাদের পরিবারে আছে, যারা উপরে সাহায্য করার অভিনয় করলেও, গোপনে তোমাকে ধ্বংস করে দেয়ার রাস্তা তৈরি করে। এই ধরনের লোক কখনোই সম্মান পাওয়ার যোগ্য নয়।
এ ধরনের লোক থেকে সাবধান থাকবেন সবাই।
