সিজারিয়ান ডেলিভারির পর কাটা স্থানে ইনফেকশন—চিনবেন কীভাবে, বাঁচবেন কীভাবে
সিজারিয়ান ডেলিভারির পর কাটা স্থানে ইনফেকশন—চিনবেন কীভাবে, বাঁচবেন কীভাবে?
সিজারিয়ান বা সি-সেকশন এখন খুবই প্রচলিত একটি অস্ত্রোপচার। তবে অপারেশনের পরের সময়টা যত্নের—কারণ এই সময়ে কাটা স্থানে সংক্রমণ হলে সুস্থ হতে দেরি হতে পারে। তাই আগে থেকেই সচেতন থাকাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
কখন বুঝবেন ইনফেকশন হয়েছে?
অপারেশনের পর হালকা ব্যথা স্বাভাবিক। কিন্তু নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন—
- ব্যথা বাড়তে থাকা – দিন যত যাচ্ছে ব্যথা কমার বদলে যদি বাড়ে।
- পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল – সেলাইয়ের জায়গা থেকে কিছু বের হলে।
- লালচে ফোলা ভাব – কাটা অংশের চারপাশ অস্বাভাবিক লাল বা শক্ত হয়ে যাওয়া।
১০০.৪°F-এর বেশি জ্বর – শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসা।
সেলাই ঢিলে বা ফাঁক হওয়া – কাটা জায়গা খুলে যাচ্ছে মনে হলে।
কেন সংক্রমণ হতে পারে?
কিছু সাধারণ কারণ হলো—
সঠিকভাবে পরিষ্কার না রাখা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকা
অতিরিক্ত ওজন
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা
আগে থেকে ত্বকের সমস্যা থাকা
কী করবেন?
নিজে থেকে ওষুধ বা ঘরোয়া কিছু লাগাবেন না।
অবশ্যই আপনার গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত ড্রেসিং দরকার হতে পারে।
দ্রুত শুকাতে ও ইনফেকশন এড়াতে করণীয়
১. হাত পরিষ্কার রাখুন – কাটা স্থানে হাত দেওয়ার আগে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
২. শুকনো রাখুন – গোসলের পর আলতো করে মুছে নিন, ভেজা রাখবেন না।
৩. ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন – যাতে ঘর্ষণ কম হয়।
৪. ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন – অন্তত ৬ সপ্তাহ ভার তোলা বা বেশি ওঠানামা করবেন না।
৫. পুষ্টিকর খাবার খান – ডিম, মাছ, ডাল, লেবু, কমলা—এগুলো ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে।
নিজের ইচ্ছামতো মলম, তেল বা পাউডার ব্যবহার করবেন না।
মনে রাখবেন: সিজারিয়ানের পরের সময়টা একটু ধৈর্যের। শরীরকে সময় দিন, বিশ্রাম নিন, এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতন থাকলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
