আসসালামু আলাইকুম হাই আমি মোঃ মুনজুরুল, এই ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

ঘোড়া আর মশা যুদ্ধ কে জিতেছে আমি ত অবাক

  


ঘোড়া আর মশা 

একটি বিশাল সবুজ প্রান্তর। দূরে নীল আকাশ, হালকা বাতাসে দুলছে কচি ঘাস। সেই মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল এক বলিষ্ঠ, সুদর্শন ঘোড়া। তার চকচকে বাদামি গা, লম্বা কেশর আর দৃঢ় খুর—দেখলেই বোঝা যায়, সে শক্তি আর স্থিরতার প্রতীক। সে শান্তভাবে ঘাস খাচ্ছিল, যেন পৃথিবীর কোনো কোলাহলই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।

ঠিক তখনই ভনভন শব্দ তুলে উড়ে এলো এক ছোট্ট মশা। ক্ষুদ্র, হালকা, কিন্তু ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। সে এসে বসলো ঘোড়ার পিঠে। ঘোড়া এতটাই বড় আর নিশ্চিন্ত ছিল যে সে টেরই পেল না।

মশা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,এই যে, আমাকে দেখতে পাচ্ছ না নাকি?ঘোড়া একটু থেমে, মৃদু হাসল। দেখছি তো। তবে তুমি এত ছোট যে চোখে পড়তে একটু সময় লাগে।মশা কথাটা শুনে একটু বিরক্ত হলো। সে ভাবল, “ছোট বলেই কি আমি তুচ্ছ?”

"ঘোড়া আর মশা যুদ্ধ কে জিতেছে আমি ত অবাক"

সে ঘোড়াটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। লম্বা পা, শক্ত পেশি, বড় শরীর। বিশাল দেহের পাশে নিজেকে সত্যিই ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল। কিন্তু তার মনে অহংকারের আগুন জ্বলে উঠল।তুমি তো বেশ বড়সড় প্রাণী!হ্যাঁ, ছোট তো নই, শান্ত গলায় উত্তর দিল ঘোড়া।আর শক্তিশালীও নিশ্চয়ই?হ্যাঁ, আল্লাহ্‌র কৃপায় শক্তিও কম নয়।

তাহলে মাছি, ডাঁশ, ঘোড়াপোকা—ওরা তোমার মতো শক্তিশালী নয়? না, ওরা নয়।প্রতিটি উত্তরে মশার বুক ধীরে ধীরে ফুলে উঠল। সে মনে মনে হিসাব করল—“হয়তো একা আমি ছোট। কিন্তু আমরা যদি সবাই মিলে যাই?” অবশেষে সে বলেই ফেলল, শোনো, তুমি যত বড়ই হও না কেন, আমরা মশারা তোমার চেয়ে শক্তিশালী। আমাদের সংখ্যা এত বেশি যে তুমি সামলাতে পারবে না! ঘোড়া শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল।

শক্তি শুধু সংখ্যায় হয় না, বুদ্ধিতেও হয়। তবুও তুমি যদি প্রমাণ চাও, দেখা যাক।মশা উড়ে গেল। চারদিকে ডাকতে লাগল,—এসো ভাই-বোনেরা! আজ আমাদের গৌরবের দিন! আমরা প্রমাণ করব, ছোটরাই আসল শক্তিশালী!-তার ডাকে বন, ঝোপ, নদীর ধারে লুকিয়ে থাকা হাজার হাজার মশা উড়ে এলো। মুহূর্তেই ঘোড়ার শরীর ঢেকে গেল। কেউ তার কেশরে, কেউ পিঠে, কেউ পায়ে, কেউ লেজে বসলো। চারদিক ভনভন শব্দে ভরে উঠল।

"ঘোড়া আর মশা যুদ্ধ কে জিতেছে আমি ত অবাক"

ঘোড়া জিজ্ঞেস করল,—সবাই কি এসেছে?—হ্যাঁ, সবাই!—সবাই কি জায়গা পেয়েছে?—হ্যাঁ, পেয়েছে!—তাহলে শক্ত করে ধরে থাকো।পরের মুহূর্তেই ঘোড়া ধপ করে বসে পড়ল। তারপর শুরু করল গড়াগড়ি। একপাশ থেকে আরেকপাশে ভারী দেহ নিয়ে গড়াতে লাগল। মাটির সাথে তার বিশাল শরীরের চাপ পড়তেই হাজার হাজার মশা পিষে গেল। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভনভন শব্দ স্তব্ধ হয়ে গেল।

ধুলো থিতিয়ে এলে দেখা গেল—সব মশাই নিঃশেষ। শুধু দু’টি ছাড়া।একটি সেই প্রথম উস্কানিদাতা মশা—সে নিরাপদ দূরত্বে গাছের ডালে বসে ছিল। আরেকটি ছোট্ট মশা কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে উড়ে এসেছে, যদিও তার একটি পাখা ভেঙে গেছে।ঝগড়াটে মশা নিচে তাকিয়ে বলল,—আহা! কী দুর্ভাগ্য! কিন্তু ছোট্ট আহত মশাটি কাঁপা গলায় বলল,—দুর্ভাগ্য নয়… এটা ছিল আমাদের অন্ধ অহংকারের ফল। ঘোড়া ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। সে কিছুই বলল না। শুধু শান্তভাবে আবার ঘাস খেতে শুরু করল—যেন কিছুই ঘটেনি।

"ঘোড়া আর মশা যুদ্ধ কে জিতেছে আমি ত অবাক"

শিক্ষা

এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অহংকার আর অন্ধ আত্মবিশ্বাস বড় বিপদের কারণ হতে পারে।সংখ্যার জোর থাকলেই শক্তি হয় না, বুদ্ধি আর স্থিরতাই আসল শক্তি।যারা অন্যকে উসকে দেয়, বিপদের সময় তারাই সবার আগে সরে যায়।উত্তেজনায় ভেসে গেলে ক্ষতি হয় নিজেরই।

সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা ছোট্ট মশার মতো বড় বড় কথা বলে, হৈচৈ করে, মানুষকে উত্তেজিত করে তোলে। কিন্তু ঝড় এলে তারা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকে—ক্ষতি হয় তাদের, যারা না ভেবে তাদের কথায় ভেসে যায়।তাই মনে রাখো—

বড় হওয়া মানে শুধু শক্তিশালী হওয়া নয়, বড় হওয়া মানে ধৈর্য আর বুদ্ধিতে দৃঢ় থাকা।

"ঘোড়া আর মশা যুদ্ধ কে জিতেছে আমি ত অবাক"

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url